সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ্য সঙ্গীত শেষে জাতীয় সঙ্গীত গাইতেই হবে জারি নির্দেশিকা

2nd January 2024 7:50 pm Country News
সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ্য সঙ্গীত শেষে জাতীয় সঙ্গীত গাইতেই হবে জারি নির্দেশিকা


রাজ্যের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির শুরুতে 'রাজ্য সঙ্গীত' গাইতে হবে। সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে এই গান গাইতে হবে সকলকে। আর অনুষ্ঠানের শেষে 'জাতীয় সঙ্গীত' গাওয়া বাধ্যতামূলক হল রাজ্যে। শনিবার এই মর্মেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু...', এই গানটাকে 'রাজ্য সঙ্গীত' করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রস্তাব পাশ হয় বিধানসভাতে। শুধু 'রাজ্য সঙ্গীত' নয়, পয়লা বৈশাখকে 'রাজ্য দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবছর এইদিনে 'রাজ্য দিবস' পালন করতে হবে, এমনই বলা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়।নবান্নের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের গরিমা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গের 'রাজ্য দিবস' ও 'রাজ্য সঙ্গীত'-এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছে। প্রতিবছর সম্মানের সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যবাসীকে 'রাজ্য দিবস' (যাকে 'বাংলা দিবস' বলা হবে) পালন করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রতিটি অনুষ্ঠান, কর্মসূচির শুরুতে ১ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের 'রাজ্য সঙ্গীত' গাইতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি 'রাজ্য সঙ্গীত' গাওয়ার সময়ও উঠে দাঁড়াতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার সেই নির্দেশই বাস্তবায়িত করল নবান্ন। রাজ্য দিবস স্থির করা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ২০ জুন তারিখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বলে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র সরকার। কিন্তু ওই দিনটি সমগ্র বাঙালি সমাজের কাছে দুঃখের দিন। গত সেপ্টেম্বরে রাজ্য বিধানসভায় রাজ্য সঙ্গীত এবং রাজ্য দিবস নিয়ে প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূলের পরিষদীয় দল। সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ইংরেজ শাসক ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সে বছর ২০ জুন এবং ২৩ জুন যথাক্রমে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের যে ঘটনা ঘটেছিল তা 'দুঃখজনক পাদটীকামাত্র'। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।