সমুদ্রের গভীরে নেমে ঘুরতে চান? ভারতে প্রথম বার ডুবোজাহাজে চেপে ভ্রমণের সুযোগ আসছে

3rd January 2024 8:32 am Country News
সমুদ্রের গভীরে নেমে ঘুরতে চান? ভারতে প্রথম বার ডুবোজাহাজে চেপে ভ্রমণের সুযোগ আসছে


টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য পর্যটকদের নিয়ে অতলান্তিকের তলদেশে রওনা দিয়েছিল ডুবোজাহাজ টাইটান। তার পর ওই ডুবোজাহাজের কী পরিণতি হয়েছিল সে কথা কারও অজানা নয়। তবু অজানাকে জানার এবং অচেনাকে চেনার কৌতূহল তো মানুষের রক্তে। জলের তলদেশে যে আরও একটি পৃথিবী রয়েছে, তা স্বচক্ষে দেখার লোভ সামলাতে পারে না ভ্রমণপিপাসুর দল। রোমাঞ্চ ভালবাসেন এমন পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এ বার ‘সাবমেরিন ট্যুরিজ়ম’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুজরাত সরকার। যা ভারতে প্রথম।

ডাঙায় দাঁড়িয়ে থাকা ডুবোজাহাজের ভিতরে প্রবেশ করার সুযোগ হয়তো অনেকেরই হয়েছে। এক সময়ে নৌবাহিনীর প্রথম সারিতে থাকা ‘আইএনএস কুরসুরা’ এখন অবসরপ্রাপ্ত। পর্যটকদের জন্য সেই ডুবোজাহাজটিকে সাবমেরিন মিউজ়িয়াম হিসাবে রেখে দেওয়া হয়েছে। ভাইজ্যাক ঘুরতে গেলেই দেখা যায় সেই জাহাজটি। কিন্তু এর আগে ডুবোজাহাজে করে জলের তলায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ সাধারণ মানুষ পাননি।

গুজরাতের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রকল্পটির জন্য মাজগাঁও ডক লিমিটেড-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ওই রাজ্যের সরকার। ২০২৪ সালে দীপাবলির আগেই এই প্রকল্পটি শুরু হওয়ার কথা। ৩৫ টন ওজনের ওই ডুবোজাহাজটি একসঙ্গে ২৪ জন পর্যটক নিয়ে সমুদ্রের ১০০ মিটার নীচ থেকে ঘুরে আসবে। জাহাজটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন দু’জন অভিজ্ঞ পাইলট এবং এক জন ক্রু। পর্যটকদের জন্য অক্সিজেন মাস্ক থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ যাবতীয় সুযোগসুবিধা থাকবে সাবমেরিনের মধ্যে।

গুজরাতের পর্যটনশিল্পের প্রসারের উদ্দেশ্যে এই প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অন্যতম মন্দির শহর দ্বারকা। পুরী, বেনারস, মথুরার মতো দ্বারকাও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছে গুজরাত পর্যটন বিভাগ।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।