পোষা প্রাণী দেখাশোনা করবে এআই রোবট

3rd January 2024 10:46 am Country News
 পোষা প্রাণী দেখাশোনা করবে এআই রোবট


বর্তমানে অধিকাংশ মানুষকেই কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে হয়। ফলে দীর্ঘসময় ঘর-বাড়ি ফাঁকা পড়ে থাকে। এমন বাড়ি দেখাশোনা করতে দোপেয়ে রোবট আনছে প্রযুক্তি জায়ান্ট এলজি। বাড়িতে নির্দ্বিধায় চলাফেরা করতে সক্ষম এই রোবট। আসছে ২০২৪ সালের ৬ থেকে ১২ জানুয়ারি আমেরিকার লাস ভেগাসে এক আয়োজনে রোবটটির ফার্স্ট লুক দেখা যাবে।প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট জানায়, রোবটটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি সুবিধা। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ব্যবহারকারী কাজে যাওয়ার পর পোষা প্রাণী দেখাশোনা করতে পারবে রোববটটি। পোষা প্রাণী দেখাশোনা করে কোনো জরুরি ও অপ্রীতিকর ঘটনার ক্ষেত্রে স্মার্টফোনে নোটিফিকেশন পাঠাবে রোবটটি। এ ছাড়া লাইট বা এসি চালু রেখে গেলে ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশন পাঠাতে পারবে। রোবটটি অনেকটা অ্যামাজনের অ্যালেক্সা বা অ্যাপলের হোমপডের মতোই কাজ করবে। 

রোবটটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের রোবটিক্স আরবি৫ প্ল্যাটফর্ম। বেশ কয়েক ধরনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে এতে এআই প্রযুক্তি কাজ করে। এলজি জানায়, এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে কথোপকথন চালানো ব্যক্তির চেহারা ও কণ্ঠস্বর চেনা এবং মানসিক অবস্থা বোঝার সুবিধা। মালিক নিজ বাড়ির দরজার সামনে এলে রোবটটি তাকে অভ্যর্থনা জানাতে পারে। এমনকি মানসিক অবস্থা চাঙ্গা করার মতো গান বাজাতে পারে। এ ছাড়া, নিজের কৃত্রিম পা ব্যবহার করেও মনের ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম রোবটটি। 

রোবটের চেহারায় একটি ক্যামেরা, স্পিকার ও বেশ কিছু সেন্সর যোগ করা হয়েছে। এসব সেন্সরের মাধ্যমে এটি বিভিন্ন বিষয় বোঝার, শোনার ও সে সম্পর্কে কথা বলতে পারবে। এ ছাড়া, বাড়ির ইনডোরে থাকা বাতাসের মান ও তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে এটি। 

এ প্রসঙ্গে এলজির বিস্তারিত মন্তব্য জানতে চাইলে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। ঠিক কবে নাগাদ রোবটটি বাজারে আসবে সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি। তবে এর দাম সংশ্লিষ্ট তথ্য পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।