ইয়ারফোন গুঁজে ঘুমপাড়ানি গান শুনে ঘুমোতে যান? কী ভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে জানেন?

14th March 2024 8:05 am Country News
ইয়ারফোন গুঁজে ঘুমপাড়ানি গান শুনে ঘুমোতে যান? কী ভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে জানেন?


সারা দিনের ক্লান্তি, অবসাদ কাটাতে মিউজ়িক থেরাপি বেশ উপকারী। ইনসমনিয়া বা অনিদ্রাজনিত সমস্যাতেও এই টোটকা বেশ কাজের। তাই রাতে খাওয়াদাওয়ার পর কানে ইয়ারফোন গুঁজে, গান শুনতে শুনতেই ঘুমোনোর অভ্যাস করেছিলেন এক তরুণী। তা থেকেই সারা জীবনের মতো শ্রবণশক্তি হারাতে হয় তাঁকে। ঘটনা চিনের শাংডং প্রদেশের।

পেশায় ব্যক্তিগত সচিব, বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ওয়াং হঠাৎ এক দিন লক্ষ করেন, অফিসে সহকর্মীরা সকলেই মুখ নাড়ছেন, কিন্তু কারও কথাই তিনি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন না। প্রথমে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলাকালীন ঊর্ধ্বতনদের কোনও কথা একেবারে শুনতে না পাওয়ায় ওয়াং তৎক্ষণাৎ স্থানীয় হাসপাতালে ছোটেন। কানের চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, নিয়মিত কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শোনার অভ্যাসে ওয়াংয়ের বাঁ কানের শ্রবণশক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ওয়াংয়ের চিকিৎসক লি টাও জানিয়েছেন, কানের স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে এই ধরনের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। খুব জোরে গান শুনলেই যে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে এমনটা নয়। একটানা অনেক ক্ষণ ধরে গান শুনলেও একই রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। কানের স্বাস্থ্যের জন্য লি সকলকে ‘৬০-৬০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ গান বা যন্ত্রসঙ্গীত যা-ই শুনুন, তা একটানা ৬০ মিনিটের বেশি শোনা যাবে না এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকতে হবে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।