ডাল রান্নার সময় ঠান্ডা জল ব্যবহার করেন? সামান্য ভুলেই বিপদ বাড়ছে না তো?

16th March 2024 10:20 pm Country News
ডাল রান্নার সময় ঠান্ডা জল ব্যবহার করেন? সামান্য ভুলেই বিপদ বাড়ছে না তো?


পোলাও, কালিয়া রান্না হলেও বাঙালি বাড়িতে প্রথম পাতে ডাল থাকেই। পাতলা ডালের জনপ্রিয়তা হারিয়ে দেয় কোর্মা, দোলমার মতো পদকেও। যতই ভালমন্দ রান্না হোক, ডাল না হলে ঠিক মনে ভরে না। তা ছাড়া ডালের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খুব কমই আছে। ডালে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি, ফোলেটসের মতো উপাদান। কম সময়ে তৈরি হয়ে যায়, এমন স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডাল। বাঙালিদের উৎসব-অনুষ্ঠানে মাছের মাথা দিয়ে ঘন ডাল রান্না হলেও, গরমে রোজকার পাতে পাতলা ডালই পছন্দ বাঙালির। তবে সর্বত্র ডাল তৈরির একই রকম পদ্ধতি নয়। গুজরাতে ডালে বেশি করে চিনি দেওয়া হয়। আবার অন্ধ্রপ্রদেশে ডালের বিশেষত্ব এই যে, তা খুব ঝাল-মশলা দিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু অনেকেই আবার ডাল তৈরির সময় ঠান্ডা জল দিয়ে দেন। এই অভ্যাস যে শুধু ডালের স্বাদ নষ্ট করে তা নয়, শরীরও সঠিক পুষ্টি পায় না। ডাল রান্নার সময় ঠান্ডা জল দিতে বারণ করেন পুষ্টিবিদেরা। কিন্তু কেন?

ডালে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ডালে রয়েছে মিনারেলস, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মতো উপাদান। সমস্ত পুষ্টিগুণ যাতে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় তার জন্য ডাল রাঁধতে হবে নিয়ম মেনে। সঠিক নিয়মে ডাল রাঁধলে স্বাদও অটুট থাকে, পুষ্টি পায় শরীরও। কিন্তু ডালে যদি ঠান্ডা জল দেওয়া হয় তা হলে রান্না হতে অনেকটাই দেরি হয়। ঠান্ডা জল দিলে ডালের পুষ্টিকর উপাদানগুলিও বজায় থাকে না। তাই ডালে সব সময় গরম জল দেওয়া উচিত। তাতে স্বাদ এবং স্বাস্থ্যগুণ, দুই-ই বজায় থাকে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।