কলকাতায় ছড়ালো কলেরা কী করে সাবধান হবেন?

5th July 2024 7:16 pm Country News
কলকাতায় ছড়ালো কলেরা কী করে সাবধান হবেন?


বর্ষা শুরু হতে না হতেই একের পর এক রোগের প্রকোপ শুরু হয়ে যায় প্রতি বছর। চলতি বছরেও তার অন্যথা হলো না। বর্ষা আসতেই কলকাতার বাগুইআটির জ্যাংড়া এলাকায় কলেরায় আক্রান্ত হলেন এক যুবক। শুধু ওই যুবক নন, তাঁর মায়ের শরীরেও পাওয়া গেছে একই ধরনের উপসর্গ। রবিবার থেকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত যুবক।এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে আক্রান্তদের ফ্ল্যাটে এসে নাইসেডের কর্মীরা নমুনা সংগ্রহ করেন।বিধান নগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড জ্যাংরার বাসিন্দা ওই ৩৫ বছরের যুবকের গত রবিবার থেকে শুরু হয় বমি এবং পেটে ব্যথা। ১০ মিনিট অন্তর অন্তর প্রায় ৩০ বার শৌচালায় যেতে হয় তাঁকে। অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়িতে না রেখে রবিবার রাতেই বেলেঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। হাসপাতালে একাধিক পরীক্ষা করার পর কিডনির সমস্যা এবং ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

কলেরা কী?

কলেরা হলো মারাত্মক ডায়রিয়াজনিত রোগ। একসময় এটি মহামারী রূপে পরিচিত ছিল, যদিও এখন মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে গেছে। প্রতিবছর দেশে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন, তার মধ্যে ৩ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হন তীব্র পর্যায়ের কলেরায়।

কলেরা থেকে বাঁচার উপায়?

সাধারণত জল এবং খাবারের ে কলেরা ছড়িয়ে যায়, তাই সবার আগে বিশুদ্ধ জল এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে জোর দিতে হবে। বর্ষাকালে বাইরের খাবার বা জল কোনও টাই খাওয়া উচিত নয়। যেহেতু নোংরা পরিবেশে কলেরার প্রকোপ বেশি থাকে তাই বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

কলেরা টিকা?

অন্যান্য টিকার মতো কলেরা টিকাও দেওয়া হয়। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যদি টিকা নেওয়া যায় তাহলে কলেরার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব। যদিও টিকাকরণের পর ১০০% নয়, ৮৫% এই রোগের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব। প্রথম ছয় মাস সব থেকে বেশি কার্যকারিতা থাকে এই টিকার, যা পরবর্তীকালে কিছুটা কমে যায়। তবে টিকাকরণের পর হালকা পেটে ব্যথা, জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ভাব এবং বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।