টম্যাটো সস্‌ ছাড়া পকোড়া, কাটলেট খেতে ভাল লাগে না? সেই সসে্-ই মিশে আছে ক্যানসারের উপাদান?

21st September 2024 8:04 pm Country News
টম্যাটো সস্‌ ছাড়া পকোড়া, কাটলেট খেতে ভাল লাগে না? সেই সসে্-ই মিশে আছে ক্যানসারের উপাদান?


কবিরাজির টুকরো একটু সসে্‌ মাখিয়ে খেতে দারুণ লাগে। আবার বাড়িতে চাউমিন কিংবা ম্যাগি হলে টম্যাটো সস্ দিয়ে খাওয়ার জন্য বায়না করে খুদে। তবে শুধু ছোটরা নন, সসের জনপ্রিয়তা বড়দের মধ্যেও কম নেই। আর এই সস্ নিয়েই সাম্প্রতিক এক গবেষণা আতঙ্কের খবর প্রকাশ্যে এনেছে। টম্যাটো সস্ নাকি ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এই সসে পাওয়া গিয়েছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। যা শরীরে মারণরোগের বীজ বপন করে চলেছে।

মুখরোচক খাবারের সঙ্গে খাওয়া ছাড়াও টম্যাটো সস্ রান্নাতে ব্যবহার করা হয়। বাড়িতে টম্যাটো না থাকলে অনেক সময়ই বিকল্প হিসাবে সস্ দেওয়া হয় রান্নায়। আবার স্যান্ডইউচের গায়ে সস্ দিয়ে ‘স্মাইলি’ একে দিলেই ছোটরা বিনা বাক্যব্যয়ে খেয়ে নেয়। দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়ে থাকা এই খাবার মৃত্যুদূত হয়ে হয়ে উঠতে পারে, তেমনটাই উঠে আসছে গবেষণায়। এই সসে থাকা ‘সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট’ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

 

কী এই সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট?

 

সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট আসলে এক ধরনের অ্যাসিড। বেরিজাতীয় ফলে এই উপাদান সবচেয়ে বেশি থাকে। এ ছাড়া অল্প পরিমাণে হলেও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবারে এই অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়। খাবার সংরক্ষণের কাজে এই অ্যাসিড সাহায্য করে। দীর্ঘ দিন খাবার টাটকা রাখতে মূলত সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট ব্যবহার করা হয়।

এই উপাদান যখন অন্য কোনও অম্ল খাবারের সঙ্গে মেশে, তখন বেশি ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তাপ অথবা আলোর সংস্পর্শে এল সো়ডিয়াম বেঞ্জোয়েট ‘বেনজেন’ নামক এক ধরনের ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানে পরিণত হয়ে যায়। রক্তের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে এই উপাদান। তবে ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ এবং ‘ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথোরিটি’-র তরফে জানানো হয়েছে এই সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট যদি পরিমিত পরিমাণে কোনও খাবারে ব্যবহার করা যায়, তা হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।