আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা, শেখ হাসিনা সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে বিচার শুরু

6th January 2025 2:40 pm Country News
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা, শেখ হাসিনা সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগে বিচার শুরু


আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে গুমের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং সদস্য বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের উপস্থিতিতে, প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদন পর্যালোচনা করে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, এবং এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, যিনি ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে, এই ১১ জনের বিরুদ্ধে যে গুমের অভিযোগ উঠেছে, তা দ্রুত তদন্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হোক এবং ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে তাদের হাজির করতে হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই বিচার একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, "এই বিচার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র অভিযুক্তদের শাস্তির কথা ভাবছে না, বরং এটি গুমের সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ইমেজ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।"

তাজুল ইসলাম আরও জানান, দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশকে একটি মানবাধিকার সম্মত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশাবাদী যে, এই বিচার প্রক্রিয়া অন্য কোন সরকারের অধীনে এমন ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সুশাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা জনস্বার্থে অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার রায় দেশের বিচারিক সিস্টেমের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। যদিও এই ধরনের মামলা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, তবে এ ধরনের বিচারের মাধ্যমে যদি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তা দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে।

গুমের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এটি দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন যে, বহু গুমের ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা রয়েছে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।