অনুষ্কা শঙ্করের সেতারের তারে যখন সুর ভেসে উঠছিল, ঠিক সেই সময় মঞ্চে প্রবেশ অরিজিৎ সিংহের। আর তারপরই যেন শুরু হল এক অনির্বচনীয় সুরযাত্রা। আলো–আঁধারি মঞ্চ, নিস্তব্ধ দর্শকাসন— তার মাঝখানে অরিজিতের কণ্ঠ আর অনুষ্কার সেতারের যুগলবন্দি তৈরি করল এক মায়াবী আবহ। মুহূর্তের মধ্যেই সুরের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। উপস্থিত সঙ্গীতপ্রেমীরা যেন সুরের আবেশে ডুবে গেলেন সম্পূর্ণভাবে।
পণ্ডিত রবি শঙ্করের অমর সৃষ্টির আবহে পরিবেশিত ‘মায়া ভরা রাতি’ গানটি গাইতে গিয়ে অরিজিৎ যেন শুধু গান গাইলেন না— অনুভূতি ছড়িয়ে দিলেন। তাঁর কণ্ঠে সেই সুরের ব্যঞ্জনা এতটাই গভীর হয়ে উঠেছিল যে, অনেকের চোখেই জল এসে যায়। সেতারের মূর্ছনার সঙ্গে কণ্ঠের ওঠানামা— এক কথায় অনবদ্য। মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন তালবাদ্য বিশারদ বিক্রম ঘোষও। তিনিও মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন এই সুরসম্মিলন।
শুধু ‘মায়া ভরা রাতি’ নয়, অনুষ্কা শঙ্করের সঙ্গে ‘Traces of You’ পরিবেশনাতেও দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন অরিজিৎ। দুই শিল্পীর সুরের মেলবন্ধন যেন আন্তর্জাতিক মঞ্চের আবহ তৈরি করেছিল। ক্লাসিক্যাল আর আধুনিক সুরের এক অপূর্ব সংলাপ ধরা পড়ে সেই পরিবেশনায়।
উল্লেখযোগ্য, গত ২৭ জানুয়ারি প্লেব্যাক সঙ্গীত থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে গোটা সঙ্গীতজগতকে অবাক করে দিয়েছিলেন অরিজিৎ। তাঁর লেখা— “I am calling it off. It was a wonderful journey.”— ভক্তদের মনে তৈরি করেছিল গভীর শূন্যতা। কিন্তু সেই অরিজিৎ যখন আবার মঞ্চে উঠে রবিশঙ্করের সুরে গান ধরলেন, তখন অনেকেই অনুভব করলেন— প্লেব্যাক ছেড়েও সুর থেকে তিনি দূরে নন।
পারফরম্যান্স শেষে যে মুহূর্তটি সবচেয়ে বেশি মন ছুঁয়ে যায়, তা হল বিক্রম ঘোষের পায়ে হাত দিয়ে অরিজিতের প্রণাম। তাঁর এই নম্রতা ও শ্রদ্ধাবোধ আবারও সকলকে মুগ্ধ করে। বিক্রম ঘোষ পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, অরিজিৎ সিনিয়রদের প্রতি যে শ্রদ্ধা দেখান, তা অনুকরণীয়; তাঁর মধ্যে অপরিসীম নম্রতা ও করুণা রয়েছে— যা তাঁকে আরও বড় করে তোলে।
অন্যদিকে অনুষ্কা শঙ্করও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, পরে অনেক কথা বলার আছে, তবে আপাতত তাঁর হৃদয় ভরে গেছে— বিশেষ করে অরিজিৎ যেভাবে তাঁর বাবার কম শোনা একটি বাংলা গানকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
এই সম্পূর্ণ পরিবেশনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভক্তদের আবেগ উপচে পড়ছে কমেন্টে। কেউ লিখছেন— এই জন্যই অরিজিৎ আলাদা। আবার কেউ বলছেন— হয়তো সিনেমার পর্দায় নতুন গানে আর তাঁকে শোনা যাবে না, কিন্তু তিনি এভাবেই চিরকাল বেঁচে থাকবেন শ্রোতাদের হৃদয়ে, সুরের মধ্যেই।