মহিলা বিজ্ঞানীকে এবার চন্দ্রযান ৪-এর দায়িত্ব দিল ইসরো

19th October 2023 9:38 pm Country News
মহিলা বিজ্ঞানীকে এবার চন্দ্রযান ৪-এর দায়িত্ব দিল ইসরো


সাফল্যের থেকে আর খুব একটা দূরে নেই আদিত্য-এল১। ২ সেপ্টেম্বর সফল উত্‍ক্ষেপণের পর থেকে থেকে এখনও পর্যন্ত সঠিক পথেই যাত্রা করে চলেছে আদিত্য-এল১।স্বাস্থ্য ও ভালো রয়েছে মহাকাশযানের। আর মিশনের নেপথ্য কারিগর যিনি তিনি ইসরোর বিজ্ঞানী নিগর শাজি। সর্বত্রই এখন নিগরের প্রশংসা। সূর্যযানের সাফল্যের পর তাঁর সাক্ষাত্‍কার নিতে মুখিয়ে রয়েছেন সকলে।তবে অবশ্য কৃতিত্ব একা নিতে মোটেও রাজি হন ৫৯ বছর বয়সী বিজ্ঞানী নিগর শাজি। জানিয়েছে, সকল বিজ্ঞানীর মিলির প্রচেষ্টাতেই এখনও পর্যন্ত সফল আদিত্য-এল১ মিশন।নিগরের কথায়, ‘আমি আমার দলের গত আট বছরের কঠোর পরিশ্রমের সাফল্য দেখতে পাচ্ছি।’ সহাস্যে নিগরের জবাব কর্মক্ষেত্রে সর্বক্ষণ ‘বসের মতো আচরণ’ ঠিক নয়। বিজ্ঞানীদের তা ঠিক মানায় না। বরং সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগাতেই পছন্দ করেন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে পছন্দের। ভবিষ্যতে সব লো-আর্থ ও প্ল্যানেটারি মিশনের দায়িত্ব রয়েছে নিগর শাজির কাঁধেই। ভবিষ্যতের সমস্ত রোবোটিক মহাকাশ অনুসন্ধান প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন নিগর শাজি।২০১৬ সাল থেকে নিগর শাজি আদিত্য-এল১ মিশনে দায়িত্বে রয়েছে। আদিত্য়-এল১ মিশনের মাধ্যমে সূর্যের বাইরের স্তর, প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলি অধ্যয়ন করা হবে। মিশনটির জন্য নিগর ইসরোর কেন্দ্র এবং ইনস্টিটিউট তথা পুনেতে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (IUCAA) এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (IIA) থেকে করোনাগ্রাফ, স্পেকট্রোমিটার এবং ম্যাগনেটোমিটারের মতো সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন। আদিত্য-এল১-এর সাতটি পেলোড রয়েছে।আদিত্য-এল১-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টরের পদে রয়েছে নিগর। ইসরোর যেকল ইঞ্জিনিয়াররা আদিত্য-এল১ মিশনের পরিকল্পনা করেছেন ও মহাকাশযানটি বানিয়েছেন এবং যে সকল বিত্রানী গবেষণার উদ্দেশ্যগুলি ঠিক করেছেন ও তথ্য বিশ্লেষণের কাজ করছেন তাঁদের সকলের মধ্যে সেতুর মতো কাজ করেছেন নিগর শাজি।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।