কে খাচ্ছে রেশনের চাল-আটা-গম? জনরোষে সত্যি ফাঁস ডিলারের ছেলের

14th November 2023 4:50 pm Country News
কে খাচ্ছে রেশনের চাল-আটা-গম? জনরোষে সত্যি ফাঁস ডিলারের ছেলের


রেশন দুর্নীতির (Ration Scam) মাঝেই খাদ্যসামগ্রী চুরির অভিযোগে উত্তপ্ত বনগাঁর (Bongaon)বাগদা এলাকার হরিনাথপুর গ্রাম। চাল, আটা কম দেওয়ায় বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল গ্রাহকদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকালে হাতেনাতে রেশন ডিলারের (Ration Dealer) ছেলেকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁরা। জনরোষের মুখে পড়ে নিজের কুকীর্তির কথা স্বীকার করলেন অভিযুক্ত। গ্রাহকদের দাবি, গত ৫ বছর ধরে এভাবে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবার হিসেব করে সেসব ফেরত দেওয়া হোক। রেশনের স্লিপে (Slip) লেখা এক পরিমাণ। আর যখন খাদ্যসামগ্রী হাতে আসছে, তখন দেখা যাচ্ছে তার পরিমাণ আরেক! রেশন তোলার পর এমনই গরমিল ঘটছিল। তা নিয়ে প্রথমদিকে গ্রাহকরা কিছুটা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, তাঁদের জন্য বরাদ্দ রেশন চুরি হচ্ছে। এর পর থেকেই হাতেনাতে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকালে সকলে জমায়েত হয়ে রেশন দোকানে যান। ১৯ কেজি সামগ্রী দেওয়া হবে বলে স্লিপে উল্লেখ করা থাকলেও ১৫ কেজি দেওয়া হয়। চাল, আটা কম দেওয়া হয়। তাতেই রেশন দোকানের কর্মীকে ঘিরে প্রথমে বিক্ষোভ (Protest) দেখাতে শুরু করেন গ্রাহকরা। কর্মী শংকর কর্মকার জানান, তিনি যা করেছেন, সবটাই ডিলারের নির্দেশ মেনে।

 

এর পরই ডিলারের ছেলে শান্তনু সাধুকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁরা। প্রবল চাপের মুখে পড়ে তিনি স্বীকার করেন যে বরাদ্দ রেশন সামগ্রীর চেয়ে কম দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, গড়ে তিন কেজি চাল, ২ প্যাকেট আটা কম দেওয়া হচ্ছে এবং এই গরমিল চলছে গত ৫ বছর ধরে। তাহলে এতদিনে কত সামগ্রী চুরি হয়েছে, তার হিসেবের কূলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।

 

এক গ্রাহকের কথায়, ”এই গ্রামে প্রায় আড়াই, তিন হাজার গ্রাহক আছে। সবার বরাদ্দ থেকে যদি এতটা করে চুরি হয়, তাহলে এতদিনে যত পরিমাণ হয়, আমাদের সব হিসেব করে ফেরত দেওয়া হোক।” এই ঘটনার কথা জানানো হয়েছে বাগদার ফুড ইন্সপেক্টর সন্দীপ চক্রবর্তীকে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রেশন দোকান সিল (Seal) করে দেওয়া হয়েছে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।